October 13, 2026, 11:37 pm

News Headline :
সরকার-ব্যবসায়ীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির প্রতিবাদে বগুড়ায় মিছিল ও এনসিপি নেতা তানভীরের কুশপুত্তলিকা দাহ রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী নির্ধারণের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রোটারি ক্লাব অব বগুড়ার ২৬তম অভিষেক অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এনসিপি‘র তানভীরকে সাময়িক অব্যাহতি, শোকজ বগুড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় শহীদ জিয়া ফুটবল টুর্ণামেন্টের প্রথম রাউন্ড সমাপ্ত ছুটির দিনে রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা দেখতে নিজেই গাড়ি চালিয়ে সড়ক পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষে উত্তপ্ত নেপাল, কারফিউ জারি পাকিস্তানে কয়লাখনিতে বিস্ফোরণে ৩২ শ্রমিক নিহত

ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ার লক্ষণ কী, ডেঙ্গু কখন মারাত্মক

যমুনা নিউজ বিডি: বছরজুড়ে ডেঙ্গু রোগী ছিল এবার। তবে ১৪ থেকে ১৫ দিন ধরে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তির চেয়ে বহির্বিভাগে ও চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী আসার হার বেশি।
ল্যাংড়া জ্বর বা চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা হুইলচেয়ারে করে আসছেন। কোভিড ও ইনফ্লুয়েঞ্জায় জ্বরের সঙ্গে সর্দিকাশি ও গলাব্যথা থাকে। তবে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের জ্বর থাকলেও সর্দিকাশি থাকে না। রোগীদের গায়ে ব্যথা থাকে। গায়ে ফুসকুড়ি (র‌্যাশ) থাকতে পারে, না–ও থাকতে পারে। ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, চোখের পেছনে, পিঠ-কোমর ও মাংসপেশিতে ব্যথা থাকে। আর চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তদের ক্ষেত্রে দেহের গিঁটে গিঁটে ব্যথা থাকে। পা ফুলে যায়। গায়ে ফুসকুড়ি থাকে। ব্যথার মাত্রা এত বেশি থাকে যে রোগী হাঁটতে পারেন না। চেম্বারে এমন রোগীদের অন্যের কাঁধে ভর করে বা হুইলচেয়ারে করে আসতে দেখা যায়। এ সময়ে গায়ে ব্যথাসহ জ্বর হলে ডেঙ্গু হয়েছে কি না, তা জানতে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া উচিত। চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকি বেশি থাকে। ডেঙ্গুর তিন-চার দিন পর জ্বরের প্রকোপ কমে এলে জটিলতা দেখা দিতে পারে। অনেকের ফুসফুসে পানি জমে যেতে পারে। রক্তচাপ কমে যেতে পারে। অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা রয়েছে যে প্লাটিলেট কমে গেলে বিপদ বেশি। কিন্তু প্লাটিলেটের চেয়ে রক্তচাপ কমে গেলে ভয় বেশি। কারও প্লাটিলেট যদি ৫ হাজারেও নেমে যায়, কিন্তু রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে তাহলে ঝুঁকি নেই। রক্তচাপ নেমে গেলে রোগী ‘শকে’ চলে যায়। তাই প্লাটিলেট নিয়ে অস্থির না হয়ে রক্তচাপের দিকে নজর রাখা বেশি জরুরি। রক্তচাপ কমে গেলে অবশ্যই হাসপাতালে নিতে হবে।
বিজ্ঞাপন

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া হলে রোগীকে স্যালাইন দিতে হবে। চিকুনগুনিয়ায় মৃত্যুঝুঁকি কম, কষ্ট বেশি। চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৭০ শতাংশ এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হয়ে যান। ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে রোগী তিন মাস পর্যন্ত অসুস্থ থাকতে পারেন, গায়ে ব্যথা থাকতে পারে। ৫ থেকে ৭ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে সুস্থ হতে বছরের পর বছর লেগে যেতে পারে।

ডেঙ্গু কখন মারাত্মক

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডেঙ্গুকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করেছে। সে অনুযায়ী ডেঙ্গু তিন প্রকার। ১. সতর্কসংকেতহীন ডেঙ্গু ২. সতর্কসংকেতসহ ডেঙ্গু এবং ৩. মারাত্মক বা সিভিয়ার ডেঙ্গু

জ্বর কমে যাওয়ার পর অর্থাৎ রোগের ষষ্ঠ, সপ্তম বা অষ্টম দিনে সিভিয়ার ডেঙ্গু দেখা দেয়। এ সময় রক্তচাপ কমে যায়, রক্তবমি হয়, কালো মল, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যেতে পারে, ত্বকের নিচে রক্ত জমে, প্রস্রাব কমে যায়, যকৃৎ বড় হয়ে যায়। এ ছাড়া বুকে–পেটে পানি জমে, ফুসফুসে পানি জমে শ্বাসকষ্ট হয়। রক্তচাপ অনেক কমে যাওয়ায় অস্থিরতা, অসংলগ্ন কথাবার্তা, একাধিক অঙ্গ অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে।

প্রথম থেকে ঠিকমতো চিকিৎসা করালে এবং সঠিক পরিমাপে তরল পদার্থ দিতে পারলে ডেঙ্গু মারাত্মক আকার ধারণ করে না। রোগীকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দিতে পারলে ডেঙ্গু সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © jamunanewsbd24.com
Design, Developed & Hosted BY ALL IT BD